শেষ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি কেন্দ্রীয় সরকারে গেলেও তামিলনাড়ুর ৩৯ টি আসনের একটিতেও জয় পায়নি। এ নিয়ে কম আলাপ-আলোচনা হয়নি। একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক এর অন্যতম একটা কারণ হিসেবে বেশ কিছু তামিল সিনেমাকে চিহ্নিত করেছেন। এই সিনেমাগুলি বিজেপির রাজনীতির অন্তঃসারশূন্যতাকে, তার নানা প্রকল্পের বাগাড়ম্বরকে লাগাতার প্রচার করে গেছে বলে তাদের অভিমত। সম্প্রতি কেন্দ্রের বিজেপি সরকার যে সিনেমার বিষয়বস্তুকে নিজের হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে, এটা তার একটা কারণ হতে পারে। 'সিনেম্যাটোগ্রাফ অ্যাক্ট ১৯৫২'-তে যে সংশোধনী (সিনেম্যাটোগ্রাফ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২১) আনা হচ্ছে এবং একটি নতুন ধারা তাতে যোগ করা হচ্ছে তার ফলে নির্দিষ্ট আইনি ছাড়পত্র পাওয়ার পরও যে কোনও ছবির প্রদর্শন সরকার আইনানুসারে আটকে দিতে পারে। সিনেমাকে প্রদর্শনের ছাড়পত্র দেওয়ার সময় 'সিবিএফসি' (সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সার্টিফিকেশন) কোনও আপত্তি তুললে বা তার সিদ্ধান্ত সিনেমার প্রযোজক-পরিচালকের পছন্দ না হলে সে বিষয়ে মীমাংসার জন্য 'এফসিএটি'র কাছে যাওয়া যেত। বিজেপি সরকার ইতিমধ্যে 'এফসিএটি' (ফিল্ম সার্টিফিকেশন অ্যাপিলেট ট্রাইবুনাল)-কে তুলে দিয়েছে। এর আগে নানা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান-সহ পুণে ফিল্ম ইন্সটিটিউটের শীর্ষপদে দলীয় নিয়োগ হয়েছে। বিজেপি'র মতাদর্শগত উৎস-সংগঠন আরএসএস-এর উগ্র হিন্দুত্বের ভাবধারায় আচ্ছন্ন, ইতিহাস বিকৃত করা সিনেমার প্রচার ও প্রসার বাড়ানোর কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সিনেমা হলে দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীত শোনার ফরমান দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এটা স্পষ্ট যে, একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে ধাপে ধাপে বিজেপি সরকার এগোচ্ছে। এর আগে কংগ্রেস সরকারও, জরুরি অবস্থার সময় (১৯৭৫-'৭৬)-তো বটেই, তা ছাড়াও নানা সময়ে নানা ছলে বলে কৌশলে সিনেমার বিষয়বস্তুকে নিয়ন্ত্রণ করার সমস্ত অপচেষ্টা করেছে। এই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সিনেম্যাটোগ্রাফ আইনের এহেন সংশোধনে স্বভাবতই বেশ কয়েকজন সিনসিয়ার চলচ্চিত্র-ব্যক্তিত্ব জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সরকারের হাতে সিনেমার বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ করার এই 'সুপার সেন্সর পাওয়ার' থাকা গণতন্ত্রের পক্ষে আদৌ কল্যাণকর কি না সে প্রশ্ন নানা মহলে উঠেছে। এ-কথা সকলেই স্বীকার করতে বাধ্য যে, সমস্ত শিল্প মাধ্যমের মধ্যে সিনেমা হল সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। শিল্প সম্পর্কে কথা আছে, 'Art can touch people and make them open up.' সিনেমা এই ওপেন-আপ করার কাজটা করতে পারে সবচেয়ে শক্তিশালী উপায়ে। রাশিয়ায় মহান নভেম্বর বিপ্লবের (১৯১৭) পর লেনিন গোটা বিশ্বের সামনে সিনেমার গুরুত্বকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাখ্যা করেছিলেন। অনুন্নত, অনগ্রসর বিশাল রাশিয়ার অগ্রগতির কাজে, জনশিক্ষার ব্যাপক বিস্তারের কাজে, জনগণের কাছে মহান বিপ্লবের আবেদন পৌঁছে দেওয়ার কাজে অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসাবে সিনেমার উপযোগিতা আবিস্কার করেছিলেন তিনি। ১৯২২ সালের একটি সার্কুলারে লেনিন স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, 'Film for us is the most important of the arts.' সেই সময়ের ছোট ছোট নির্বাক (সবাক চলচ্চিত্র আসে ১৯২৭-২৮ নাগাদ) ছবি নিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামেগঞ্জে চলে যেতে পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর উদ্যোগেই আইজেনস্টাইন, পুদভকিন-সহ এক ঝাঁক তরুণ চলচ্চিত্রকার হিসেবে গড়ে উঠেছিলেন। বিশ্ব চলচ্চিত্রের উন্নতি ও অগ্রগতিতে এবং চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। চেতনার বিকাশে তাঁরা কী অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছিলেন সে আলোচনার অবকাশ এখানে নেই। কিন্তু যেটা বলার তা হল, সর্বোন্নত শিল্পমাধ্যম হিসাবে জনমত গঠনের ক্ষেত্রে, জনমতকে প্রভাবিত করার প্রশ্নে সিনেমা দুর্দান্ত ভূমিকা পালন করে। আর ঠিক এই কারণেই অন্যান্য বহু কিছুর মতো সিনেমার ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারটাও আবশ্যিক হয়ে দাঁড়ায়। শিল্পের উপর নিয়ন্ত্রণ, এটা শুনলেই কেউ কেউ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। শিল্পের স্বাধীনতা বিঘ্নিত হচ্ছে মনে করেন। এই ধরনের ক্ষোভ বিচারসাপেক্ষ। যুক্তিসঙ্গত নিয়ন্ত্রণ সমস্ত কিছুর উপরই রাখতে হয়, ব্যক্তিগত পরিসরে, সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় পরিসরে নিয়ন্ত্রণ রাখতেই হয়। তা না হলে কোনও কিছুরই শৃঙ্খলা থাকবে না। আবার, শৃঙ্খলা রাখতে গিয়ে যেন শৃঙ্খল পরিয়ে দেওয়া না হয় সেটাও দেখতে হবে। এই দেখাটাই পরিমিতিবোধ। সিনেমার ওপর নিয়ন্ত্রণ কারণ, ধনতান্ত্রিক বাজারে সিনেমা একটি সুবিশাল বাণিজ্যিক পণ্য। মুনাফা লোটার উদগ্র প্রতিযোগিতার কারণে এক শ্রেণির সিনেমায় হিংসা, অশ্লীলতা, কুসংস্কার, ধর্মীয় বিদ্বেষের উসকানি ইত্যাদির প্রবেশ ঘটে সাংঘাতিকভাবে। এ জিনিস বারবার সমাজের সংহতিকে, মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যকে আহত করে, শিশু-কিশোর মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সমাজের অগ্রগতিকে ব্যাহত করে। তাই, কাজের প্রয়োজনে আগুন জ্বালানো দরকার ঠিকই। আবার একই সাথে সেই আগুনের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকাটাও একান্ত জরুরি, নয়তো সব পুড়ে ছাই হয়ে যেতে পারে। তাহলে প্রশ্ন, সিনেম্যাটোগ্রাফ আইনে রদবদল ঘটিয়ে বিজেপি সরকার যে সিনেমার বিষয়বস্তুকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে তাতে আপত্তি কী? উত্তরে বলতেই হবে, হ্যাঁ, আপত্তি আছে। ঘোরতর আপত্তি আছে। আপত্তির প্রধান কারণ, বিজেপি সরকার সিনেমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে কোনও গঠনমূলক সামাজিক স্বার্থবোধ থেকে নয়, বরং দলীয় সাম্প্রদায়িক মতাদর্শ প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশে। সে চাইছে সিনেমা এমন হোক যাতে তার দলীয় উগ্র হিন্দুত্ববাদী ধারণার প্রচার ও প্রসার সমৃদ্ধ হয়। যে সিনেমা সেই কাজটা করবে এবং সেটা করার জন্য অবলীলায় ইতিহাসকে বিকৃত করবে, কল্পকাহিনীকে ইতিহাস বলে চালাতে চাইবে সেই সিনেমা এক-কথায় ছাড়পত্র পেয়ে যাবে। আর যে সিনেমা বিজেপি'র এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করবে, তার সঙ্কীর্ণ মতাদর্শকে প্রশ্ন করবে সেই সিনেমার প্রদর্শনের অনুমতি কিছুতেই পাওয়া যাবে না অথবা শর্তসাপেক্ষ অনুমতি পেতে দীর্ঘকাল কেটে যাবে। এই ধরনের স্বৈরাচারকে আরও বেশি করে, আরও শক্তপোক্তভাবে আইনী ঘেরাটোপে আনাটাই সিনেম্যাটোগ্রাফ আইন সংশোধনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। বিজেপি সরকারের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য যে এইটাই সেটা কিসের ভিত্তিতে বলা হচ্ছে? এ কথা বলার ভিত্তি অবশ্যই আছে। অত্যন্ত সঙ্গত ভিত্তি আছে। একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। গত বছর 'তানাজি' নামে একটা হিন্দি সিনেমা হয়েছে। প্রচার করা হয়েছিল, তানাজি হল একটা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক যা মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। সিনেমাটির ছত্রে ছত্রে হিন্দুত্বের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য মরিয়া চেষ্টা করা হয়েছে এবং সে জন্য ইতিহাসকেও বিকৃত করা হয়েছে। খুব সংক্ষেপে বলা যাক। মহারাষ্ট্রের কোন্ধানা দূর্গ তখন মুঘলদের দখলে। সে দূর্গ পাহারা দিচ্ছে ঔরঙজেবের এক সেনাপতি উদয়তান সিং। ওই দূর্গ পুনর্দখল করার যুদ্ধে শিবাজি তাঁর এক সেনাপতি তানাজি-কে দায়িত্ব দেন। যুদ্ধে তানাজি নিহত হলেও দূর্গ পুনর্দখল সম্ভব হয়। এই হল ইতিহাস। এখানে হিন্দু-মুসলমানের কোনও ব্যাপারই নেই। দু'জন দখলকারী শাসকের পারস্পরিক যুদ্ধ। তাই এখানে দেশেপ্রেমেরও কোনও ব্যাপার নেই। অথচ একে নিয়েই কার্যত ভারত-পাকিস্তান বা বলতে হয় হিন্দু-মুসলমান দ্বন্দ্বের রগরগে সিনেমা তৈরি হয়ে গেল। ঐতিহাসিক ভিত্তিহীন এবং একপেশে ঢঙে তানাজিকে এক অতিমানব এবং উদয়ভানকে ক্রুর রূপে তুলে ধরা হল। কেউ বলতে পারে, দেশপ্রেম নেই কোথায় মশাই? এই যে বহিরাগত মুঘল সম্রাটদের বিরুদ্ধে লড়াই, এই তো দেশপ্রেম। এক্ষেত্রে বলতে হয়, প্রথমত, মুঘল সম্রাটদের মধ্যে বাবর, হুমায়ুন ও আকবর ছাড়া প্রত্যেকেরই জন্ম ভারতীয় মহিলার গর্ভে। এঁদের মধ্যে জাহাঙ্গির ও শাজাহানের মা ছিলেন রাজপুত মহিলা। দ্বিতীয়ত, ১৭৫১ থেকে ১৭৬১ সাল পর্যন্ত বাংলায় মারাঠা সেনাপতিরা যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও লুঠপাট চালিয়েছে, সেটা কোন দেশেপ্রেমের নমুনা। আর, মুঘল সম্রাটরাও ধর্ম দেখে যুদ্ধ করেনি। তাহলে বাবর ইব্রাহিম লোদিকে এবং তাঁর কয়েক হাজার সৈন্যকে হত্যা করত না। বাংলার ঈশা খাঁ'র বিরুদ্ধে আকবর মান সিংহকে পাঠাতেন না। বিজাপুর দখলের জন্য ঔরঙজেব আদিল শাহি সুলতানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেন না। ফলে মুঘলদের বিরুদ্ধে হিন্দুত্বের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ অথবা দেশপ্রেমের যে উন্মীরন তানাজি সিনেমার মাধ্যমে করার চেষ্টা হয়েছে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, সহজেই বোঝা যায়। সে কারণেই গেরুয়া ঝাণ্ডাকেও বারবার মহিমান্বিত করার চেষ্টা হয়েছে। তানাজির মায়ের মুখে সংলাপ, 'যব তক কোম্বানা মে ফির সে ভগওয়া নেহি লহরতা, হাম জুতে নেহি পেহেনেঙ্গে।' তানাজির মুখে সংলাপ, 'হর মারাঠা পাগল হ্যায় স্বরাজ কা, শিবাজি রাজে কা, ভগওয়ে কা।' কোন ভগওয়ার কথা বলা হচ্ছে? যেখানে ও লেখা রয়েছে। এর বিরুদ্ধে মারাঠাদের এক গোষ্ঠী মামলা করেছিল। সিনেমার নানা বিষয় নিয়ে আরও বহু আপত্তি উঠেছিল। কিন্তু কোনও কিছুই তাকে প্রদর্শনের পথে বাধা দিতে পারে না। কারণ, সিনেমাটি শাসক দল বিজেপির আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছে। পাশাপাশি, 'মহল্লা আসি' সিনেমাটির কথায় আসা যাক। ২০১৫ সালে তৈরি এই সিনেমাটিতে বেনারসের প্রখ্যাত আসি ঘাট সংলগ্ন এলাকার জনজীবনকে ভিত্তি করা হয়েছে। দরিদ্র মানুষের অসহায়তা, পুঁজির থাবায় তাদের বিধ্বস্ত অবস্থা দেখানো হয়েছে। ধর্মের নামে ভড়ং দেখানো হয়েছে। ধর্মের ভেকধরা কর্তৃত্বের গা-জোয়ারি দেখানো হয়েছে। কাশীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক শোষণের ইতিহাস বলা হয়েছে। সিনেমাতে বাবরি মজসিদ ভাঙার অন্যায়, 'মন্দির ওহি বানায়েঙ্গে' মার্কা দুষ্ট রাজনীতি ইত্যাদি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ফলে সিনেমাটিকে কিছুতেই প্রদর্শনের অনুমতি দেওয়া হল না। সরকারের প্রবল অনিচ্ছা সত্তেও, অনেক পরে, দীর্ঘ আইনী লড়াইয়ের পর, ২০১৮ সালের নভেম্বরে সিনেমাটি মুক্তি পেল। সিনেম্যাটোগ্রাফ আইনে সংশোধনী আনার, সরকারের হাতে 'সুপার সেন্সর পাওয়ার' আনার প্রয়োজনীয়তা এই কারণেই দেখা দিয়েছে যাতে 'মহল্লা আসি' ধরনের সিনেমার প্রদর্শন চিরতরে আটকে দেওয়া যায়। এই ধরনের বহু উদাহরণ আছে। এখানে সেসব উল্লেখের প্রয়োজন নেই। কিন্তু বিজেপি সরকারের এই পদক্ষেপগুলি বন্ধ করা দরকার। যে অশ্লীল, আজগুবি এবং মারামারি-রক্তপাতের সিনেমা সমাজ মননে অসুস্থ প্রভাব বিস্তার করে সেগুলি সরকার আটকাক। কিন্তু যে সিনেমা সত্য অন্বেষণ করতে চায়, চিরাচরিত সংস্কারকে প্রশ্ন করতে চায়, সমাজকে দেখার চোখ তৈরি করতে চায়- সে সব সিনেমা প্রদর্শিত হতে দেওয়া উচিত। নানা মত, নানা ব্যাখ্যার মতাদর্শগত বিচার-বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে সামাজিক চিন্তা এগোয়। আবার, শোষণের উপর প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র সহজে একাজ করে না। তার জন্য সাধারণ শিল্পীদেরও লড়তে হয়, আন্দোলন গড়ে তুলতে হয়। আগামী দিনে বিজেপি সরকারের এই ফ্যাসিবাদী পদক্ষেপগুলির বিরুদ্ধে জোরদার লড়াই হবে, সিনেমা সামাজিক অগ্রগতিতে বড় ভূমিকা নেবে এই আকাঙ্ক্ষা থেকে আমাদের প্রত্যেকেরই সক্রিয় হওয়া দরকার। ¤ (পথিকৃৎ-এর আগস্ট ২০২১ সংখ্যা থেকে নেওয়া)
পথিকৃৎ
৮৮বি বিপিন বিহারী গাঙ্গুলী স্ট্রিট
কলকাতা ৭০০০১২
দূরাভাষ- 9433046280, 9433451998
ইমেইল- pathikritpatrika@gmail.com