সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

“ধর্মীয় বিদ্বেষ ও রবীন্দ্রনাথের দেশ”

ভারতীয় নবজাগরণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মনীষী এবং মহান মানবতাবাদী ব্যক্তিত্ব হিসাবে রবীন্দ্রনাথের পরিচিতি বিশ্বজোড়া। এবছর ৯ মে (২৫শে বৈশাখ) তাঁর ১৬৬ তম জন্মদিবস নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায়, বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতির গতি প্রকৃতি বিবেচনা করে, পথিকৃৎ পত্রিকার ফেসবুক পেজ-এ ১১ মে সন্ধ্যা ৭ টায় আয়োজিত হয়েছিল এক আলোচনা সভা। তার আলোচ্য বিষয় ছিল, “ধর্মীয় বিদ্বেষ ও রবীন্দ্রনাথের দেশ”। এরকম একটি বিষয় নিয়ে, আজ এই একুশ শতকের তৃতীয় দশকে, আমাদের আলোচনা করতে হচ্ছে –এটা কোনও ভাবেই স্বস্তির কথা নয়। কিন্তু আমাদের চারপাশের বাস্তবতা হচ্ছে এই যে, এখনও ধর্মীয় বিদ্বেষের চোখ দিয়ে মানুষকে দেখা হচ্ছে, তাকে অবিশ্বাস, অপমান এবং আতঙ্কিত করা হচ্ছে। মধ্যযুগের অন্ধকার সমাজের বৈশিষ্ট্য ছিল ধর্মীয় আচার, কুসংস্কার, অন্ধতা, জাতপাত ইত্যাদি। সেই নির্জীবতা থেকে মানুষকে মুক্তির পথ দেখাতে এদেশে এসেছিল নবজাগরণের তরঙ্গ। রামমোহন, বিদ্যাসাগর প্রমুখ ব্যক্তিত্ব জ্বেলেছিলেন জ্ঞানের আলো। সেই ধারাপথে এসেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। ধর্মকে কেন্দ্র করে মানুষে মানুষে হানাহানি দেহে প্রবল দুঃখ ক্ষোভে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, “ধর্মকারার প্রাচীরে বজ্র হানো/এ অভাগা দেশে জ্ঞানের আলোক আনো।” গভীর আশঙ্কায় আক্ষেপ করে তিনি বলেছিলেন, “ধর্মেরই দোহাই দিয়া কোনো জাতি যদি মানুষকে পৃথক করিতে থাকে, এক শ্রেণীর অভিমানকে আর এক শ্রেণীর মাথার উপরে চাপাইয়া দেয়... তবে সে-জাতিকে হীনতার অপমান হইতে রক্ষা করিতে পারে এমন কোনো সভা সমিতি... এমন কোনো রাষ্ট্রনৈতিক ইন্দ্রজাল বিশ্বজগতে নাই। সে জাতি এক সংকট হইতে উদ্ধার পাইলে আর এক সংকটে আসিয়া পড়িবে...। ইহাতে কোনো সন্দেহমাত্র নাই যে, ধর্মের বিকারেই গ্রীস মরিয়াছে, ধর্মের বিকারেই রোম বিলুপ্ত হইয়াছে এবং আমাদের দুর্গতির কারণ আমাদের ধর্মের মধ্যে ছাড়া আর কোথাও নাই।” রবীন্দ্রনাথের এই শিক্ষাগুলি আত্মস্থ করে, আরও উন্নত, যুগোপযোগী আদর্শকে পাথেয় করতে হবে আমাদের। নাহলে আমাদের দুর্গতিকে আমরা প্রতিহত করতে পারব না। এই উপলব্ধির অনুসঞ্চার ঘটানোর উদ্দেশ্যেই আলোচনা করেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট অধ্যাপক শ্রী নীলরতন সরকার। তিনি রবীন্দ্রনাথের গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ইত্যাদি থেকে নানা অংশ উদাহরণ হিসাবে তুলে এনে প্রাঞ্জল ভাষায় তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। আমরা অত্যন্ত আশাবাদী যে, মানুষ এই ধরণের আলোচনা থেকে সমৃদ্ধ হবেন এবং নতুন করে ইতিবাচক দৃষ্টি নিয়ে নিজের চারপাশকে দেখতে উৎসাহ পাবেন।

পথিকৃৎ

আমাদের পত্রিকা ওয়েবসাইটের সাথে যুক্ত থাকুন এবং সর্বশেষ খবর ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট নিয়মিত পান

যোগাযোগ

পথিকৃৎ
৮৮বি বিপিন বিহারী গাঙ্গুলী স্ট্রিট
কলকাতা ৭০০০১২

দূরাভাষ- 9433046280, 9433451998
ইমেইল- pathikritpatrika@gmail.com

গুরুত্বপূর্ণ লিংকসমূহ

© Pathikrit. All Rights Reserved. Designed By GenxByte